ChannelPadma Privacy Policy

অপহরণের ১৯ দিন পর আ.লীগ নেতার বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী উদ্ধার

অপহরণের ১৯ দিন পর আ.লীগ নেতার বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী উদ্ধার
CHANNEL PADMA bd 2022

অপহরণের ১৯ দিন পর আ.লীগ নেতার বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী উদ্ধার : অপহরণের ১৯ দিন পর ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে ব্যবসায়ী হেলাল খানকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এসময় একটি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস সহ অপহরণকারী ৪ ব্যাক্তিকে আটক করা হয়।

রোববার (০৭ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.ওয়াহিদুজ্জামান।

এর আগে শনিবার (০৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লু’র বাড়ি থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী হেলাল খানকে উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, গত ১৮ জুলাই রাতে জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে অপহরণ করা হয় ব্যবসায়ী হেলাল খানকে। হেলাল খান আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের শিরগ্রামের মৃত. আলিম খানের ছেলে। শিরগ্রামে একটি সুতার মিল রয়েছে হেলাল খানের।

অপহৃত হেলাল খান জানান, গত ১৮ জুলাই রাতে আমাকে বানা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লু ফোন দিয়ে ডেকে নেন। বুড়াইচ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছামাত্রই আমাকে একটি মাইক্রোবাসে উঠানো হয়। জিল্লু আমাকে বলে চল ঘুরে আসি।

এরপর গাড়িতে উঠা মাত্রই জোড়পূর্বক হাত পা বেধে ফেলে। বিভিন্ন স্থান ঘুরে আমাকে নিয়ে রাখা হয় একটি ঘরে। আমি জানালা খুলে ওই এলাকার দোকানের সাইনবোর্ড দেখতে পাই খুলনার ঠিাকানা। তখন বুঝতে পারি আমি খুলনায় রয়েছি। পরদিন আমাকে জিল্লু তার বাড়ি আড়পাড়া গ্রামে নিয়ে আসে। সেখানে তার বাড়িতে আমাকে আটকে রাখা হয় এবং আমার উপর নির্যাতন চালানো হয়।

তিনি আরো জানান, এভাবে বেশ কয়েকদিন চলে যায়। এরই মধ্যে আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে জিল্লু সহ তার সহযোগীরা। আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। বাড়ি থেকে কেউ ফোন দিলে আমার হাতে ফোন দিয়ে লাউড স্পিকারে কথা বলতে হতো। ওরা শিখিয়ে দিতো যে আমি ব্যবসার কাজে বাইরে আছি। একারনে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেনি।

এরই মাঝে তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এছাড়া কয়েকটি চেকের পাতায়ও স্বাক্ষর করিয়ে নেয় জিল্লু সহ তার লোকজন। প্রতিদিনই আমাকে মারপিট করা হতো।

হেলাল খান জানান, আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার মিলের একটি মেশিন বিক্রি করে দেয় ওরা। প্রায় ১২ লাখ টাকায় মেশিন বিক্রি করে দেয়। আমাকে দিয়েই বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে মেশিন বিক্রির কথা বলায়। কাস্টমার আসলে ওরা মিলে গিয়ে তাকে মেশিন বুঝিয়ে দিয়ে ওদের একাউন্টে টাকা নিয়ে নেয়।

তিনি আরো জানান, আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লু এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত। কয়েকমাস আগে বানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেন তিনি। নির্বাচনে পরাজিত হন জিল্লু। আওয়ামী লীগ করায় বিভিন্ন অপকর্ম করলেও ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেনা।

সর্বশেষ আমার বড় ভাইয়ের সাথে কথা হয় অপহরণকারী জিল্লুর। আমার বড় ভাই থানা পুলিশের কাছে বিষয়টি জানালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ আমাকে জিল্লুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো.ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত ব্যবসায়ী হেলাল খানকে আড়পাড়া গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, এসময় আলফাডাঙ্গা উপজেলার শিরগ্রামের আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লু (৪৫), বোয়ালমারী উপজেলার ছুলনা গ্রামের পংকজ রায় (৪৩), চরনারানদিয়া গ্রামের রাকিব শেখ (৩২) ও আড়পাড়া গ্রামের মোঃ নিশান (২৪) কে আটক করা হয়।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি আরো বলেন, উদ্ধার অভিযানকালে একটি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি, একটি নোয়া মাইক্রোবাস, ২ টি মোবাইল ফোন ও সোনালী ব্যাংকে টাকা জমার একটি রশিদ জব্দ করা হয়। এঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.