ChannelPadma Privacy Policy

খুলে দিবে দক্ষিনের পর্যটনের নতুন দুয়ার

খুলে দিবে দক্ষিনের পর্যটনের নতুন দুয়ার
CHANNEL PADMA bd 2022

খুলে দিবে দক্ষিনের পর্যটনের নতুন দুয়ার

পদ্মা সেতু ঘিরে তৈরি হয়েছে দক্ষিনাঞ্চলের পর্যটনের নতুন নতুন ক্ষেত্র। স্বপ্নের সেতু চালু হবে মাত্র কয়েকদিন পরেই। সেতু দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই আসছে অসংখ্য মানুষ। ভ্রমণপিপাসু মানুষের চাহিদা মেটাতে সেতু সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠছে হোটেল, রেস্তোরা, রিসোর্ট, পার্ক সহ নানা স্থাপনা।

সেতু পাড়ের মানুষের যেন আন্তরিকতার কমতি নেই। আতিথেয়তার সবটুকু দরদ দিয়েই পর্যটকদের সেবা দিচ্ছেন তারা। আদি পেশা বদল করে অনেকেই এখন পর্যটনকেন্দ্রিক নতুন ব্যবসা কিংবা অন্য পেশায় আত্মনিয়োগ করছেন। এ দিকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের পর্যটনের উদ্যোক্তারাও নতুন সেবা দেয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

পদ্মা সেতু চালু হলে শুধু যোগাযোগই নয়, পর্যটনের পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্যেও অনেক দূর এগিয়ে যাবে এই এলাকার মানুষ। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের স্পটে পরিণত হবে পদ্মা সেতু।

শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে হোটেল রেস্তোরা। ফুড এক্সপ্রেস নামে একটি চায়নিজ রেস্তোরা রয়েছে। সেতু এলাকা ঘুরে এসে ভ্রমণপিপাসু মানুষ রেস্তোরায় বসে খাবার খাচ্ছে। রয়েছে ভ্রাম্যমান ফাস্টফুড, ফুচকা, চায়ের দোকান। এগুলো পেয়ে সেতু দেখতে আসা মানুষ খুব খুশি।

এদিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গার চার রাস্তা মোড়ে গোল চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় কয়েকটি স্পট। চোখ ধাঁধানো মনোরম দৃশ্য। এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভার, সৌন্দর্য্য বর্ধনে ফুল গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়া গোল চত্বরে আলোকসজ্জা সহ নানা আয়োজন রয়েছে।

ভাঙ্গা থেকে সেতু দেখতে আসা আসলাম শেখ বলেন, স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে সেতু দেখতে এসেছিলাম। সেতুতে উঠতে পারিনি। দূর থেকেই দেখলাম। সবাই খুশি। সেতু দেখে এসে রেস্তোরায় বসে খাবার খেলাম, ভালোই লাগছে। এখানে একটিই রেস্তোরা রয়েছে। খাবারের মানও ভালো, দাম মোটামুটি। সবমিলে ভালো লেগেছে।

শরিয়তপুর সদর থেকে আসা নাজমা আক্তার বলেন, মেয়ে বায়না ধরেছে পদ্মা সেতু দেখবে, তাই মেয়েকে নিয়ে এসেছি পদ্মা সেতু দেখাতে। ঘুরে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তাই মেয়েকে নিয়ে রেস্তোরায় বসেছি। এখানে রেস্তোরায় বসে খাওয়া দাওয়া করলাম।

পদ্মা সেতু সংলগ্ন নাওডোবা এলাকায় গড়ে উঠেছে ফুড এক্সপ্রেস নামে একটি রেস্তোরা। রেস্তোরার স্বত্বাধিকারী মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরাই প্রথম পদ্মা সেতু এলাকায় রেস্তোরা দিয়েছি। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছে পদ্মা সেতু দেখতে। পদ্মা সেতু দেখে অন্য কোথাও বসার জায়গা না থাকায় আমার এই রেস্তোরায় ভ্রমনপিপাসু মানুষ আসছে।

তিনি আরো বলেন, এখানে রুটি, গ্রীল, কাবাব সহ চাইনিজ খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পদ্মার ইলিশের ব্যবস্থা রয়েছে। আগামী ২৫ জুন সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আরো খাবারের বিশেষ আয়োজন করা হবে। এছাড়া দূর দূরান্ত থেকে সেতু দেখতে আসা মানুষের রাতে থাকার জন্য আবাসিক হোটেল নির্মানের কাজও চলমান রয়েছে।

সেতু এলাকায় ভ্রাম্যমান ফুচকা বিক্রেতা সাইফুল শেখ বলেন, আগে ভ্যান চালাতাম। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের তারিখ ধার্য্য হওয়ার পর থেকেই ভ্যান চালানো বাদ দিয়েছি। এখন ঘুরে ঘুরে ফুচকা বিক্রি করি। আগের চেয়ে রোজগারও ভালো হচ্ছে।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, উত্তাল পদ্মার বুকে একটি সেতু, যা কল্পনারও অতীত, স্বপ্নরা ছিল অধরা। আজ সেই স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে। আর এই অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর প্রতি আমরা দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ চির কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর ফলে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা আরো বেগবান হবে। কৃষি অর্থনীতিরও নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। পাশাপাশি দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের পর্যটনের নতুন দুয়ার খুলে গেলো। এই সেতুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই হোটেল, রেস্তোরা, রিসোর্ট নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

সেতু দেখতে আসা গোলাম মাওলা বলেন, পদ্মা পাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য আকৃষ্ট করছে সব বয়সের মানুষকেই। এই সেতু দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন পর্যটকরা। পদ্মার পাড় ও সেতুর আশপাশে নৌ-যানে চড়ে মন ভরে দেখছেন স্বপ্নের সেতু। বেসরকারিভাবে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরা নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। সেতুকে ঘিরে সরকারিভাবে পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।

বরিশাল থেকে ঢাকাগামী রাশেদ হোসেন বলেন, আমি পেশায় ব্যবসায়ী। বাড়ি থেকে ঢাকায় যাচ্ছি নিজস্ব গাড়িতে। সেতু এলাকায় নেমে একটু ঘুরে দেখলাম, ভালো লাগলো। এখানে এখনও রিসোর্ট বা ভালো মানের রেস্তোরা গড়ে ওঠেনি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেতু দেখতে অনেকেই আসছেন। অনেকেই দিনে এসে দিনের দিন ফিরতে পারেন না, তাদের থাকার কোনো ব্যবস্থা এখনও এখানে গড়ে ওঠেনি। অন্য জায়গায় গিয়ে তাদের থাকতে হচ্ছে। তিনি সরকারি-বেসরকারিভাবে রিসোর্ট অথবা আবাসিক হোটেল নির্মানে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
 
আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো: আবুল কাশেম বলেন, আমি মনে করি পদ্মা সেতুকে ঘিরে দেশের মধ্যে পর্যটনের বিরাট সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আয় করারও সুযোগ তৈরি হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন স্পট হিসেবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আলতাফ হোসেন বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে দুই পাড়ে নতুন স্পট তৈরি হচ্ছে। সেতু ঘিরে পর্যটনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বেসরকারি পর্যায়ে অনেক উদ্যোক্তাই এগিয়ে আসছেন। পর্যটন খাত এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বড় একটি ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, যমুনা নদীর উপরে বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মানের ফলে উত্তরবঙ্গের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ঠিক তেমনি পদ্মা নদীর উপর সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে। ইতিমধ্যেই এ অঞ্চলে মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে পদ্মা সেতু।

তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের ফলে দক্ষিনাঞ্চল পর্যটন ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাবে। বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্পট নির্বাচন করছেন। এছাড়া ফরিদপুরে একটি ইকোনমিক জোন করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

খুলে দিবে দক্ষিনের পর্যটনের নতুন দুয়ার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.