ChannelPadma Privacy Policy

চুরির অপবাদে কিশোরকে ধরে নিয়ে নির্যাতন !

চুরির অপবাদে কিশোরকে ধরে নিয়ে নির্যাতন !
CHANNEL PADMA bd 2022

চুরির অপবাদে কিশোরকে ধরে নিয়ে নির্যাতন! :

ফরিদপুরের সদরপুরে এক কিশোরকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারপিট ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোরকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে গেলে সেখানেও বাঁধা দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে এঘটনায় ওই কিশোরের মা আসমা বেগম (৪২) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, সদরপুর উপজেলার ভাসানচর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় গত ১৭ জুলাই রাতে চুরির অভিযোগে রিয়াজ (১৪) নামের ওই কিশোরকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারপিট করা হয়।

পরে রিয়াজকে ধরে নিয়ে নতুন বাজার এলাকায় গাছের সাথে বেঁধে সবার সম্মুখে মারপিট করা হয়। চুরির অভিযোগে রাত ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তার উপর চলে অমানুষিক এ নির্যাতন। এসময় তারা মোবাইলে ওই দৃশ্য ধারণ করে উল্লাস করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে গত ১৭ জুলাই রাত ৮টার দিকে রিয়াজকে জোর করে তুলে নতুন বাজারে নিয়ে একটি গাছের সাথে বেঁধে উপর্যুপরি মারপিট করে।

খবর পেয়ে ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তার নিকট এক লাখ টাকা দাবি করে তারা। রাত ১২ টার দিকে এই টাকা পরে পরিশোধের অঙ্গীকার করার পর সেখান থেকে রিয়াজকে মুক্ত করতে সক্ষম হন পরিবার।

ওই কিশোরের মা আসমা বেগম জানান, আহত রিয়াজকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও তার চিকিৎসায় বাধা দেয়া হয়। সদরপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। তবে, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় উসমান মোল্যাডাঙ্গী গ্রামের শাজাহান মোল্যা (৫০), ইউসুফ বেপারী (৬০), আমজাদ মোল্যা (৪০), কাইয়ুম মোল্যা, নজরুল ইসলাম, মতিয়ার মোল্যা, ইউনুস মোল্যাসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫ থেকে সাতজনকে আসামি করে গত ২৭ জুলাই ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙনের শিকার হয়ে প্রায় দশ বছর আগে টিলাডাঙ্গী গ্রামে জমি কিনে নতুন বসত গড়েন। তার স্বামী ও বড় ছেলে বিদেশ প্রবাসী।

জমি কিনে টিলাডাঙ্গীতে বাড়ি করার পর থেকেই স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের উপর নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে। কিন্তু লোকবল না থাকায় তারা প্রতিবাদ করতে পারেন না। শত্রুতামূলকভাবেই তার ছেলেকে এভাবে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন তারা গ্রামে বসবাস করতেই ভয় পাচ্ছেন। তার ছেলেতো ঘরের বাইরেই বের হতে পারছে না।

এ ব্যাপারে ভাষানচর ইউপি চেয়ারম্যান কাওসার শেখ বলেন, ওই গ্রামে ইদানীং শ্যালো মেশিন চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। পরে ওই রাতে চুরির সন্দেহে ছেলেটিকে মারপিট করা হয়। তবে রাতে ছেলেটিকে আটক করার খবর পেয়ে আমি তাদের মারপিট করতে নিষেধ করেছিলাম।

ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি রিয়াজ নামের ছেলেটা চুরির সাথে সম্পৃক্ততা নেই। তাই পরে অবশ্য তার মাকে বিষয়টি মিমাংসার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা রাজি হননি। কোর্টে তারা মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার বলেন, এমন কোন ঘটনার খবর কেউ আমাকে জানাননি। কেউ তার নিকট মামলা করার জন্যও কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। এরকম অভিযোগ নিয়ে আসলে অবশ্যই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.