ChannelPadma Privacy Policy

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে খুশির ঝিলিক তাদের মনে

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে খুশির ঝিলিক তাদের মনে
CHANNEL PADMA bd 2022

বাপ-দাদার ভিটে ছাড়তে হয়েছে, মনে ছিল দু:খ, কিন্তু পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর খুশির ঝিলিক বইছে পদ্মা সেতুর জন্য জমি দেওয়া পরিবারগুলোর বাসিন্দাদের মনে। আনন্দের জোয়ার বইছে নাওডোবা পূনর্বাসন কেন্দ্রে বসবাসকারীদের মাঝে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে খুশির ঝিলিক তাদের মনে

নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বৃহৎ এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সেই সঙ্গে সড়কপথে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের জেলার যোগাযোগের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

সেতুর জন্য বাপ-দাদার ভিটে ছেড়ে বসতি গড়তে হয়েছিল অন্যস্থানে, খুব কষ্ট নিয়েই আসতে হয়েছিল তাদের, কিন্তু পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর তাদের মনে বইছে খুশির ঝিলিক। মনে নেই কোনো আক্ষেপ, তাদের জায়গায় সেতু হওয়ায় গর্বিত তারা। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে খুশির ঝিলিক তাদের মনে

স্বপ্নের সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে নাওডোবায় সরকারের দেওয়া জায়গায় সবুজে ঘেরা এই পল্লিতে বসতি গড়া পরিবারগুলোর মাঝে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। পুনর্বাসিত এলাকার রাস্তাঘাট সব পাকা। আশপাশের পুরোটা অঞ্চলজুড়ে সবুজের সমারোহ। ছায়া সুনিবিড় এসব পথে শিশুরাও বেড়ে উঠছে শৈশবের দুরন্তপনায়। শিশুদের পড়ালেখার জন্য স্কুল, চিকিতসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সুপেয় পানি সহ নানা সুবিধা রয়েছে এই পূনর্বাসন কেন্দ্রে।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা পূনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা রাশেদা খাতুন বলেন, নিজেদের জায়গা জমি ছেড়ে দিয়ে আসতে হয়েছে পদ্মা সেতুর জন্য। প্রথমে কিছুটা কষ্ট হয়েছিল, কিন্তু পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ার পর স্বস্তি পেয়েছি। সেতুর উপর দিয়ে সবাই চলাচল করতে পারছে আনন্দ লাগছে। মনে এখন আর কোনো দু:খ নেই। অনেক ভালো লাগছে। এখানে বসবাসকারী সকলেই খুব খুশি। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে খুশির ঝিলিক তাদের মনে

আরেক বাসিন্দা রওশনআরা বেগম বলেন, নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে এসে উঠেছি সরকারের দেওয়া জমিতে। এখানে ভালো আছি। পদ্মা সেতুর জন্য নিজেদের জমি দিতে পেরেছি, একারনে এখন গর্ববোধ করছি। বলতে পারবো বাপ-দাদার ভিটের উপর দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মান হয়েছে।

নাওডোবা পূনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা আসলাম শেখ বলেন, অনেকের বাপ-দাদার কবরও ছিল, যেখান দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মান করা হয়েছে। খুবই কষ্টের ব্যাপার, কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর খুশির জোয়ার বইছে। এই সেতুর কারনে আমাদের এলাকার অনেক উন্নয়ন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রাস্তা-ঘাট নির্মান হয়েছে, দোকান পাট বসছে। অনেক গরীব মানুষের আয় রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে।

নাওডোবা পূনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মসজিদ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও পুকুর সহ নানা প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে খুশির ঝিলিক তাদের মনে

নাওডোবা পদ্মা সেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে স্কুলের উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ২৫৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক এবং কর্মচারী রয়েছে ১২ জন। এখানে পড়ালেখারত সকলেই পূর্নবাসন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের সন্তান।

তিনি আরো বলেন, পূনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের সন্তানরা যাতে পড়ালেখা করতে পারে সেকারনে এই স্কুল নির্মান করেছে সরকার। এখানে বসবাসকারী প্রায় সকল শিশুই পড়ালেখা করছে।

নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আলমগীর হোসেন ঢালী বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে আমাদের এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমরা যারা সেতুর জন্য জমি দিয়েছি তাদের অনেকেরই মনে দু:খ কষ্ট ছিল, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে সেই দু:খ কষ্ট লাঘব হয়ে গেছে। অনেকের বাপ-দাদার কবর রেখে চলে আসতে হয়েছে, তারপরেও আজ আর কারো মনে কষ্ট নেই, কারন পদ্মা সেতু শুধু দেশ নয় বিশে^র বুকে বাংলাদেশকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সবাই এর অংশিদার হওয়ায় গর্ববোধ করছি। সেতুতে জমি দিয়ে স্বার্থকতা খুঁজে পেয়েছি আমরা নাওডোবাবাসী। আমাদের ত্যাগের বিনিময়ে সারাদেশের সাথে দক্ষিনবঙ্গের মানুষের মিলন ঘটেছে এটা ভেবেই আমরা অনেক খুশি। এছাড়া সেতুকে ঘিরে মেগা প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা তাত পল্লীর জন্য জমি অধিগ্রহন করে কাজ শুরু হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট হয়েছে, ভেতরে স্কুল হয়েছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে খুশির ঝিলিক তাদের মনে

আলমগীর হোসেন ঢালী বলেন, পূনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের হাতে জমির দলিলও তুলে দেওয়া হচ্ছে। তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার জন্য স্কুল করে দেওয়া হয়েছে। চিকিতসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ নানা প্রকল্প করা হয়েছে। এখানে বসবাসকারী সকলেই খুব ভালো রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.