ChannelPadma Privacy Policy

পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাবে ‘সম্রাট’

পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাবে ‘সম্রাট’
CHANNEL PADMA bd 2022

নাম তার সম্রাট। ফরিদপুর জেলার সবচেয়ে বড় আকারের ষাড় গরু, ওজন ৪০ মন। কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে বিক্রি করার জন্য লালন পালন করা হয়েছে। পশুটির মালিক তার দাম চাইছেন দশ লাখ টাকা। এলাকায় প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে ভাল দর পেতে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে সম্রাটের। খামার মালিকের আশা, পদ্মা সেতুর বদৌলতে হয়তো তিনি কাঙ্খিত ক্রেতাও পেয়ে যাবেন ঢাকায়। পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাবে সম্রাট

ফরিদপুর শহরের বর্ধিত পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বিলমামুদপুরে মাইশা ডেইরি ফার্মে ছোটবড় মিলিয়ে বর্তমানে রয়েছে ১১৮টি গরু। ফার্মের মালিক রফিকুল ইসলাম সবুজ। ১৯৯৪ সালে মাত্র ৩টি গাভী দিয়ে ফার্ম শুরু করেন। কোরবানী উপলক্ষে তিনি তার ফার্মে ৫টি গরু মোটাতাজাকরন করেন। এর মধ্যে সম্রাট সবচেয়ে বড় প্রায় ৪০ মন ওজন।

এই ফার্মে ৪২ মাস আগে সম্রাটের জন্ম। এই গরুটি লম্বায় সিনা থেকে পেছন পর্যন্ত ১১ ফুট এবং এর উচ্চতা ফ্লোর থেকে পিঠ পর্যন্ত প্রায় ৬ ফুট। সবমিলিয়ে ৪০ মন ওজনের সম্রাটের শরীরে গোস্ত রয়েছে ১২শ’ কেজি।

এছাড়াও ইতিমধ্যে ওই ফার্মের আরো ৩টি গরু বিক্রি করা হয়েছে। ৮ মন ওজনের গরু বিক্রি করা হয়েছে ১লাখ ৯০ হাজার টাকা, ৭ মন ওজনের গরু ১ লাখ ৭০ হাজার ও ৬মন ওজনের গরু ১লাখ ৩০হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক ঘাস আর বিশেষ যত্ন নিয়েই বড় করে তোলা হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাড় গরু সম্রাটকে। নিয়মিত খাবারের সাথে বিশেষ কিছু খাবার হিসেবে তাকে দেয়া হয় আপেল, কমলা ও আঙুর। আকার আকৃতিতে যে কোন গরুর তুলনায় অনেক বড় হওয়ায় মালিক তার নাম রেখেছেন সম্রাট। ৪০ মন ওজনের এই শান্তু প্রকৃতির গরুকে দেখতে উৎসাহী মানুষেরা প্রতিদিনই ভীর করছে মাইশা ডেইরি ফার্মে। পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাবে সম্রাট

ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ বছর ৫৩ হাজার ৮শ’ ৭৫ টি পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩৬ হাজার ৩শ ২৩ টি এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ১৭ হাজার ৫৫২ টি।

ফরিদপুরে কোরবানীর পশুর চাহিদা ৪১ হাজারের কিছু বেশি। সেই হিসাবে ফরিদপুরের প্রায় ১২ হাজারের বেশি গরু উদ্বৃত্ত রয়েছে যেগুলো ফরিদপুরের বাইরে বিক্রি করা যাবে। খামারী রয়েছে ৬হাজার ৬শ ৯৫ জন। পশু বিক্রির জন্য ৩৩টি হাট রয়েছে। এছাড়া ৯টি উপজেলায় অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম রয়েছে।

মাইশা ডেইরী ফার্মের কর্মচারী রাশেদ শেখ বলেন, সম্রাটকে ৪২ মাস যাবত লালন পালন করছি। সন্তানের মত লালন পালন করেছি। টাকার দরকার ফার্মের মালিক সম্রাটকে বিক্রি করে দিবে। একটু খারাপ লাগছে। তিনি আরো বলেন, সম্রাট খুব শান্ত প্রকৃতির। জেলার মধ্যে এবছরের সেরা গরু সম্রাট। পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাবে সম্রাট

সম্রাটকে দেখতে আসা আসলাম শেখ বলেন, আমি মধুখালী থেকে এসেছি সম্রাটকে দেখতে। আমার মতো অনেকেই প্রতিদিন সম্রাটকে দেখতে আসছে। গরুটি খুব শান্ত। একেবারেই চুপচাপ থাকে। আমার এতো টাকা নেই, টাকা থাকলে কিনে রাখতাম।

মাইশা ডেইরী ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, ১৯৯৪ সালে মাত্র তিনটি গাভী দিয়ে ফার্ম শুরু করি। ধীরে ধীরে এখন আমার ফার্মে বড় ছোট সবমিলিয়ে ১১৮টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি গাভী রয়েছে, যা বর্তমানে দুধ দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এবারের কোরবানী ঈদের বিক্রি করার জন্য ৫টি গরু মোটাতাজাকরন করি। ইতিমধ্যেই তিনটি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। একটি আমি নিজে কোরবানী দিবো। আর রয়েছে ৪০ মন ওজনের সম্রাট। সম্রাটের দাম চাচ্ছি ১০ লাখ টাকা, কিন্তু যারা কিনতে আসছে তারা ৮ লাখ টাকার বেশি বলছে না। একারনে বিক্রি করছি না।

সবুজ বলেন, প্রত্যাশিত দাম না পেলে সম্রাটকে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা নিয়ে যাবো। পদ্মা সেতুর ফলে সড়কে ভোগান্তি হবে না, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঢাকায় নিয়ে যাবো। ঢাকায় নিয়ে গেলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, আমার ফার্মেই জন্ম সম্রাটের। ৪২ মাস আগে জন্ম হয় সম্রাটের। জন্মের সময় ওজন ছিল ৬০ কেজি। জন্মের সময়ই গ্রোথ বেশি ছিল, তাই ওই সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ওকে বড় করবো। ৪২ মাস বয়স এখন সম্রাটের, ওজন প্রায় ৪০ মন হয়েছে। ১হাজার ৬শ কেজি ওজন হবে। গোস্ত হবে এক হাজার ২শ কেজি। জেলার সবচেয়ে বড় গরু সম্রাট।

সবুজ বলেন, প্রতিদিন ১হাজার ২শ টাকার খাবার লাগে সম্রাটের। ঘাষ, খড়, ভুষি, ফিড এর পাশাপাশি প্রতিদিন আপেল, আঙুর খাওয়ানো হয় সম্রাটকে। এতোদিন লালন পালন করেছি, বিক্রি করতে কষ্ট লাগছে, কিন্তু টাকার প্রয়োজন তাই বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে। সম্রাটকে বিক্রি করার কারনে সকল কর্মচারীর মন খারাপ।

কোরবানীর পশু বিক্রির জন্য জেলায় ৩৩টি হাট বসেছে। এরমধ্যে অন্যতম টেপাখোলা পশু হাট। হাটের ইজারাদার আবু সালেহ বলেন, টেপাখোলা পশু হাটটি বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে অন্যতম। এবছর এখনো তেমন জমে ওঠেনি পশু বেচাকেনা। বর্তমানে মাঝারি ধরনের গরু বিক্রি হচ্ছে। বড় গরু এখনো কেনা শুরু হয়নি। তবে ঈদের দুই তিন দিন আগে বড় গরু বেচাকেনা শুরু হবে।

তিনি আরো বলেন, এই হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা আসে। পশু কিনে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে। আবার অনেকই পশু বিক্রি করতে আসে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ কে এম আসজাদ বলেন, জেলায় এ বছর ৫৩ হাজার ৮শ’ ৭৫ টি পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩৬ হাজার ৩শ ২৩ টি এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ১৭ হাজার ৫৫২ টি। পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাবে সম্রাট

তিনি বলেন, জেলায় কোরবানীর পশুর চাহিদা ৪১ হাজারের কিছু বেশি। সেই হিসাবে প্রায় ১২ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে, যেগুলো জেলার বাইরে বিক্রি করা যাবে। জেলায় খামারী রয়েছে ৬হাজার ৬শ ৯৫ জন। পশু বিক্রির জন্য ৩৩টি হাট রয়েছে। এছাড়া ৯টি উপজেলায় অনলাইনেও গরু বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম বসানো হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরো বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে খামারীরা এবছর বেশি লাভবান হবেন। জেলায় দাম ভালো না পেলে তাতক্ষনিক তারা পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় তাদের পশু নিয়ে যেতে পারবে। সকালে গিয়ে বিক্রি করে সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে আসতে পারবে। পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকা যাবে সম্রাট

ডা. এ কে এম আসজাদ বলেন, জেলায় এবছর সবচেয়ে বড় গরু ৪০ মন ওজনের সম্রাট। যা এখনও বিক্রি হয়নি। ওই ফার্মের মালিককে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.