ChannelPadma Privacy Policy

পাটপণ্য রপ্তানীতে চুক্তির খেলাপ হবে না আর

পাটপণ্য রপ্তানীতে চুক্তির খেলাপ হবে না আর
CHANNEL PADMA bd 2022

‘সোনালী আঁশ খ্যাত’ ফরিদপুর জেলা। এই জেলা পাট চাষে উপযোগি মাটির স্বাস্থ্য, অনুকুল আবহাওয়ার কারণে গুণগত ও মানসম্পন্ন পাট উৎপাদন হয়, যা সারা পৃথিবী জুড়ে সমাদৃত। পাটপণ্য রপ্তানীতে চুক্তির খেলাপ হবে না আর

জেলায় রয়েছে ২২টি জুট মিল, মিলের উতপাদিত পাট পণ্য সুতা রপ্তানী করা হয় বিশে^র বিভিন্ন দেশে। পণ্য পরিবহনে ফেরিঘাটে ভোগান্তির কারনে বায়ারদের কাছে চুক্তির খেলাপ হতো মিল মালিকদের। পদ্মা সেতু চালুর ফলে পণ্য রপ্তানীতে আর চুক্তির খেলাপ হবে না মিল মালিকদের

ফরিদপুর জেলার ব্র্যান্ডিং স্লোগান ‘সোনালী আঁশে ভরপুর, ভালবাসি ফরিদপুর’। চলতি মৌসুমে জেলার দেড় লক্ষাধিক চাষী তাদের জমিতে পাটের চাষ করেছেন। জেলায় মোট ১ লক্ষ ২৪ হাজার হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে এই মৌসুমে ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে যা থেকে উৎপাদন হবে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ বেল (১৮০ কেজিতে ১ বেল) পাট। পাটপণ্য রপ্তানীতে চুক্তির খেলাপ হবে না আর

জেলায় রয়েছে ২২টি জুট মিল। এর মধ্যে ১৯টি মিল চালু রয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত রয়েছে আরো কয়েকটি। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে ব্যবসায়ীরা। সেতু উদ্বোধনের পর আরো কয়েকটি জুট মিলের কাজ শুরু হবে।

জুট মিলে পাট পণ্য সুতা সহ বিভিন্ন পণ্য উতপাদন করা হয়ে থাকে। এসকল পণ্য বিশে^র বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা হয়। কিন্তু পন্য পরিবহনে ফেরিঘাটের ভোগান্তির কারনে বায়ারদের সাথে চুক্তির খেলাপ হতো ব্যবসায়ীদের। সময়মত পণ্য শিপে পাঠাতে পারতোনা। একারনে অনেক সময় মালামাল পাঠানোর চুক্তি বাতিল হত, ক্ষতিগ্রস্থ্য হতেন ব্যবসায়ীরা।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ফলে আর সমস্যায় পড়তে হবে না জুট মিল মালিকদের। সময়মত পদ্মা সেতু দিয়ে পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে যেতে পারবে। সেখান থেকে বিদেশে সঠিক সময়ে পণ্য পৌছাবে। লাভবান হবেন ব্যবসায়ীরা। পাটপণ্য রপ্তানীতে চুক্তির খেলাপ হবে না আর

প্রাইড জুট মিলস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মৃধা মো: বদিউজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতু দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের জন্য আশির্বাদ। ব্যবসায়ীকভাবে আমরা লাভবান হবো। আমরা পাট থেকে সুতা তৈরি করে থাকি। ওই সুতা চট্টগ্রাম পোর্টের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানী করি।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে মালামাল পৌছাতে ফেরিঘাট ব্যবহার করতে হতো। ফেরিঘাটে অনেক সময় দুই থেকে তিন দিন যানজটে আটকে থাকতো ট্রাক। সময়মত পণ্য পৌছাতে পারতাম না। শীপ ছেড়ে যেতো, সিডিউল মেলাতে পারতাম না। বিদেশের ক্রেতাদের সাথে ব্যবসায়ীক চুক্তি অনেক সময় বাতিল হয়ে যেতো। পণ্য ফেরত আনতে হতো, ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হতাম। কিন্তু এখন পদ্মা সেতু চালু হলে আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই পণ্য চট্টগ্রামে পৌছাতে পারবো।

প্রাইড জুট মিলের নারী শ্রমিক রাশেদা খাতুন বলেন, ফেরিঘাটের যানজটের কারনে মাল নিয়ে ট্রাক আটকে থাকতো। দেরি হওয়ায় বিদেশে সুতা পাঠাতে পারতো না। সুতা ফেরতও আনতে হতো। একারনে অনেক সময় মিল বন্ধ রাখতো মালিকরা। এখন সেতু চালু হলে এই সমস্যায় পরতে হবে না। মিলও বন্ধ থাকবে না, আমাদের রোজগার ঠিক থাকবে। স্বামী, সন্তান নিয়ে সুখে থাকতে পারবো। পাটপণ্য রপ্তানীতে চুক্তির খেলাপ হবে না আর

দাহমাশি জুট ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লিমিটেডের জিএম (প্রশাসন ও অপারেশন) কর্নেল (অব:) মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে সময় বাঁচবে, সময় বাঁচলে অর্থ বাঁচবে, ফলে লাভবান হতে পারবো আমরা। আমরা সাধারণত টার্কি, ভারত, পাকিস্তান, এলসানবদর, চায়না ও আমেরিকাতে পাট থেকে তৈরি সুতা রপ্তানী করে থাকি

তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু চালুর ফলে ফেরিঘাটের বিরম্বনা থেকে মুক্তি পাবো। তাছাড়া প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ কমে যাবে। আগে ঘাটে ট্রাক আটকে থাকতো, ভাড়া বেশি দিতে হতো। সেতু দিয়ে মালামাল এখন পাঠাতে পারবো। সময়ও বাঁচবে, খরচও কম হবে। আবার বায়ারদের সাথে সম্পর্কও ভালো থাকবে। কারন ঘাটের যানজটের কারনে সময়মত পোর্টে মালামাল পাঠাতে পারতাম না। একারনে অনেক সময় শীপ ছেড়ে চলে গেছে, বা শীপ দেরি করে ছাড়ায় ভাড়া বেশি দিতে হতো। এখন আর তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

দাহমাশি জুট মিলের শ্রমিক আশরাফ হোসেন বলেন, অনেক সময় ঢাকা থেকে কিছু মালামাল আনতে হয় মিলের জন্য। ওই মালগুলো বহনকারী ট্রাক ঘাটে আটকে থাকতো যানজটে। ফলে মিল বন্ধ রাখতে হতো। আমাদেরও কাজ বন্ধ থাকতো। বেতন পেতাম না, কারন মিল ভালো চললে আমাদের রোজগার ভালো হয়।

মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমার ইউনিয়নে তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফরিদপুর সুগার মিলস, রাজ্জাক জুট মিল ও খান চানাচুর লিমিটেড। এছাড়া আরো কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী জায়গা কিনেছে প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য।

তিনি আরো বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমার ইউনিয়নে থাকায় এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এসেছে। অনেক সময় মালিকদের সাথে কথা হলে তারা বলতেন ফেরিঘাটের যানজটের কারনে তাদের পণ্য ঘাটে আটকে রয়েছে। ভিনদেশী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা রাখতে পারছে না। এখন আর সেই সমস্যা থাকবে না। পদ্মা সেতু দিয়ে পণ্য সরাসরি চট্টগ্রাম পোর্টে পাঠাতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো চললে আমার এলাকার যারা ওই খানে চাকুরি করে তারাও ভালো থাকতে পারবে। তাদের রোজগারও ভালো হবে। এলাকা আরো উন্নত হবে। পাটপণ্য রপ্তানীতে চুক্তির খেলাপ হবে না আর

ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র পরিচালক মো: মহসিন শরীফ বলেন, জেলায় ২২টি জুট মিল রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ টি চালু রয়েছে। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটির জায়গা কিনে রেখেছে। অবকাঠামোগত কাজ শুরু করবে শীঘ্রই।

তিনি আরো বলেন, জুট মিল মালিকদের একটি বড় সমস্যা তাদের উতপাদিত পণ্য শিপমেন্ট করা। অনেক সময় ফেরিঘাটের কারনে তারা তাদের পণ্য সঠিক সময়ে পাঠালেও ঘাটে আটকে থাকতো। বায়ারদের কাছে সময়মত মালামাল পৌছাতো না। অনেক বায়ার পণ্য চুক্তি বাতিল করতো। ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়ে পড়তো ব্যবসায়ীরা, কথা রাখতে পারতো না শুধুমাত্র ফেরিঘাটের যানজটের কারনে।

মহসিন শরীফ আরো বলেন, পদ্মা সেতু দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের নতুন নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে। শুধুমাত্র জুট মিল মালিকরাই নয়, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। এর সুফল পাবে সকলেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ড. হজরত আলী বলেন, পাটের জন্য বিখ্যাত এই জেলা। সোনালী আশের জন্য সুখ্যাতি রয়েছে এই জেলার। চলতি মৌসুমে জেলার দেড় লক্ষাধিক চাষী তাদের জমিতে পাটের চাষ করেছেন। পাটপণ্য রপ্তানীতে চুক্তির খেলাপ হবে না আর

তিনি আরো বলেন, জেলায় মোট ১ লক্ষ ২৪ হাজার হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে এই মৌসুমে ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে যা থেকে উৎপাদন হবে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ বেল (১৮০ কেজিতে ১ বেল) পাট।

ড. হজরত আলী বলেন, পাট চাষের পাশাপাশি জেলায় জুট মিল রয়েছে। মিলগুলোতে পাট থেকে সুতা তৈরি করে বিদেশে রপ্তানী করছে মিল মালিকরা। এলাকার অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.