ChannelPadma Privacy Policy

পাহাড় সমান অভিযোগ, তবুও বহাল তবিয়তে শিক্ষা কর্মকর্তা

পাহাড় সমান অভিযোগ, তবুও বহাল তবিয়তে শিক্ষা কর্মকর্তা
CHANNEL PADMA bd 2022

পাহাড় সমান অভিযোগ, তবুও বহাল তবিয়তে শিক্ষা কর্মকর্তা :

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলাম যেন ‘দুর্নীতির পাগলা ঘোড়া’। জেলা প্রশাসক লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে বদলি ও বিভাগীয় ব্যাবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলেও ওপরের দিকে ম্যানেজ করে তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন তারপরও দীর্ঘ সময়।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যান বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটিসহ বিভিন্ন মহলের নানা ধরনের অভিযোগের পাহাড় জমে আছে। কিন্তু শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অফিসের লোকজনকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যান তিনি।

২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল ভাঙ্গায় কর্মস্থলে যোগদান করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলাম। এযাবৎ তার রোষানলে পড়েন নাই এমন কোন শিক্ষক ভাঙ্গা উপজেলায় খুঁজে পাওয়া কষ্ট।

স্থানীয় যে কোনো বিদ্যালয়ে ঢুকে কড়া নাড়লেই বেরিয়ে আসছে তার দুর্নীতির কাহিনী। অভিযোগের সত্যতা মিলার পরও রহস্যজনকভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ বহাল তবিয়তেই আছেন ওই কর্মকর্তা।

রুহুল আসলামের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার চিত্র তুলে ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা একত্রিতভাবে তার বিরুদ্ধে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আইনানুগ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন করেন।

কেনাকাটা করে টু পাইস কামানোর ধান্দা :

ভাঙ্গা উপজেলার কয়েকটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সরেজমিন ঘুরে মুন্সী রুহুল আসলামের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়।

এতে জানা যায়, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে স্কুলগুলোতে সরবরাহর জন্য শিক্ষার্থীদের কাব ড্রেস, হলদে পাখির ড্রেস ও এপ্রোন কেনা বাবদ প্রতি ৬ পিসের মূল্য নিয়েছেন ৪ হাজার ৮শ টাকা, যার বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫শ টাকা।

চলতি বছর আবারো বায়োমেট্রিক মেশিন পুণরায় রান করার নামে নিয়েছেন সাড়ে ৪ হাজার টাকা এবং অগ্নিনির্বাপকের গান পাউডার ক্রয় বাবদ নিয়েছেন ১ হাজার ৫শ টাকা করে।

উপজেলার প্রতিটি স্কুলের প্রায় ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্য জনপ্রতি ২টি মাস্ক ক্রয় বাবদ প্রধান শিক্ষকদের নিকট থেকে নিয়েছেন ৬০ টাকা করে। যার মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা, কিন্তু তার সরবরাহকৃত ২টি মাস্কের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৬ টাকা, যার সর্বোচ্চ মূল্য ৩ লক্ষ টাকা।

এছাড়া মুজিব কর্নারের বই, করোনা সামগ্রী, শিক্ষক আইডি কার্ড. প্রটেক্টিভ ডিভাইস, প্লেয়িং এক্সারসাইজ সহ বিভিন্ন সরঞ্জমাদি যা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মাধ্যমে কেনার কথা থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার রুহুল আসলাম সেগুলো নিজেই কিনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সরবরাহ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব মালপত্র ক্রয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও সরঞ্জমাদি নিম্নমানের হওয়ায় অনেক প্রধান শিক্ষকরা তা নিতে অস্বীকার করেন। কিন্তু যেসব শিক্ষক তা নিতে অস্বীকার করেন রুহুল আসলাম তাদের বিভিন্ন অজুহাতে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভাগীয় মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোর স্লিপ কার্যক্রম থেকে বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা বাবদ ২৩ হাজার টাকা, সেটিং বাবদ ২ হাজার টাকা এবং রান করার জন্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা করে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়েছেন। কিন্তু তিনি যে মেশিনগুলো দিয়েছেন তার সর্বোচ্চ বাজারমূল্য রয়েছে ৯ হাজার টাকা।

স্প্রে মেশিন বাবদ নিয়েছেন ২ হাজার টাকা, যার বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা, হ্যান্ড ওয়াশ বাবদ নিয়েছেন আড়াই হাজার টাকা, যার বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৯শ টাকা, অগ্নিনির্বাপক সামগ্রী বাবদ নিয়েছেন ৬ হাজার টাকা, যার বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫শ টাকা।

থার্মাল স্ক্যানার বাবদ নিয়েছেন আড়াই হাজার টাকা, যার বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ২শ টাকা, অক্সিমিটার মেশিন বাবদ নিয়েছেন ২ হাজার টাকা, যার বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ২শ টাকা।

জ্যেষ্ঠতা টপকে খাতিরের লোককে প্রমোশন দেয়া :

স্থানীয় খামিনারবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মঞ্জু রানী সরকারের অভিযোগ, তার বদলে জুনিয়র একজনকে পদন্নোতি দেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি জানান, ভাঙ্গা উপজেলাধীন সুলিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হলে বদলী সংক্রান্ত জেষ্ঠ্যতার নীতিমালায় উক্ত পদে তার বদলি হওয়ার আবেদনপত্র অগ্রাহ্য করে নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে নুরুন্নাহার শিউলি নামের অপর এক প্রধান শিক্ষককে উক্ত পদে বদলির সুপারিশ করেন অভিযুক্ত আসলাম।

অথচ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উভয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মঞ্জু রানী সরকারকে প্রাথমিক শিক্ষার ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর বদলির জন্য সুপারিশ করেছিলেন। এ বিষয়ে মঞ্জু রানী সরকার ফরিদপুর-৪ এর সংসদ সদস্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হলে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারী উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ওই পদে আবেদনের জন্য একটি নোটিশ করা হয়। সেখানে আবেদনের সময়সীমা বেধে দেওয়া হয় ২৬ জানুয়ারী পর্যন্ত।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবুল কালাম মোল্যা, প্রশান্ত মজুমদার ও দিলিপ কুমার এই তিনজন প্রধান শিক্ষক আবেদন করলেও তাদের জন্য সুপারিশ করেননি আসলাম। এদের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে নির্ধারিত সময়ের আবেদনপত্র উপেক্ষা করে ২৭ জানুয়ারী আবেদনকারী সর্বকনিষ্ঠ প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তারকে বদলির সুপারিশ করেন ওই কর্মকর্তা।

প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে হয়রানী :

উপজেলার ভরিলহাট নয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দে বলেন, সম্প্রতি রুহুল আসলামের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা দেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষক হাজরাকান্দা চরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. নাসির জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আসলামের রোষানলে পড়ে নাই এমন কোন শিক্ষক উপজেলায় নেই। ‘না পারছি সইতে না পারছি উগরাইতে’। আমরা নিরীহ শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের রোষানলে পুড়ছি।

কাজ না করেই টাকা উত্তোলন :

ভাঙ্গার ১০৪ নং পড়ারন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শান্তিয়া আক্তার গত ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর মুন্সি রুহুল আসলাম সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ফরিদপুর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার কাজের মধ্যে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকার কাজ করেন। বাকি কাজ না করে সমস্ত টাকার চেকে স্বাক্ষর নিয়ে বাকি টাকা তুলে অভিযুক্ত রুহুল আসলাম সহ তার সহযোগীদের মাঝে ভাগ করে দেওয়ার জন্য তার উপর চাপ প্রয়োগ করেন।

কিন্তু সেই প্রস্তাবে তিনি রাজি না হওয়ায় ও চেকে স্বাক্ষর না করায় রুহুল আসলাম তাকে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতিসহ চাকুরী খাওয়ার হুমকি দেন। শুধু তাই নয় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ভাঙ্গা উপজেলার ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামতের জন্য ৩৬ লক্ষ এবং ১৬ টি বিদ্যালয়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬ লক্ষ ৪০হাজার টাকার বরাদ্দ আসে।

উক্ত মেরামতের কাজ সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সেই অর্থ খরচের মূল ভুমিকায় ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুসী রুহুল আসলাম।

কমিটির সদস্যদের হাত করে তিনি মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে গত ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

স্লিপের টাকা আত্মসাৎ :

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্কুলের শিক্ষকরা জানান, স্কুলের সকল উন্নয়নমূলক কাজ প্রতি অর্থ বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সমাপ্ত করার কথা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসকল কাজ সমাপ্ত না করে বরং শিক্ষকদের বাধ্য করেন ওই সব কাজের বিল জুন মাসে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে দাখিল করার জন্য।

সেই বিল পাশ করে রুহুল আসলাম তার নিজের পরিচালিত অফিসের হিসাবে জমা করে রেখে দেন। এরপর সময় সুযোগ বুঝে কাজ পরিদর্শনের নামে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করে এসব বিল নিজে আত্মসাৎ করেন।

সে সমস্ত বিল বাবদ তাকে ২৫/৩০ পার্সেন্ট কমিশন দিতে রাজি হলে প্রধান শিক্ষকদের চেক দেওয়া হয়। অন্যথায় বিভিন্ন হয়রানিসহ ও বিল আটকে দেওয়া হয়।

স্থানীয় হাজরাকান্দা চরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে দেখা যায়, ওই স্কুলের স্লিপের টাকা ২০২০ সালের ২৯ জুলাই তারিখে ট্রান্সফার হয়েছে যা হওয়ার কথা ছিল ৩০ জুনের আগে। বেশীরভাগ বিদ্যালয়ের ব্যাংক স্টেটমেন্টই একই রকম।

মানবিক সাহায্যর টাকাও লোপাট :

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা শিক্ষা অফিস সহায়ক মান্নান মিয়া দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় অভিযুক্ত রুহুল আসলাম উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষকের নিকট থেকে জনপ্রতি ২শ টাকা করে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার জনৈক শিক্ষকের অসুস্থতার কথা বলে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে উভয়ের সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, রুহুল আসলামের পক্ষ থেকে তারা কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি।

ডিসি-ইউএনও’র সুপারিশের পরও শাস্তি হয়নি :

অভিযুক্ত আসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের মৌখিক ও লিখিত নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ভাঙ্গা উপজেলা সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহমেদ ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বরাবর বিভাগীয় ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন।

সেই আলোকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসার আসলামকে অন্যত্র বদলিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর সুপারিশ করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে অদ্যবধি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

বরং জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের নাকের ডগায় বসে তিনি বহাল তবিয়তে ঘুষ, দুর্নীতি, বদলি ও নিয়োগ বানিজ্য করেই চলেছেন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় তিনি দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টদের অনেকেই।

আগের কর্মস্থলেও ছিলেন বেপরোয়া :

জানা গেছে, রুহুল আসলাম তার সাবেক কর্মস্থল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা হতে অনিয়ম, দূর্নীতি ও ঘুষ লেনেদেন সহ বিভিন্ন অভিযোগের কারনে বদলি হন। গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে এসব ঘটনার তদন্ত শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঘটনায় তার নামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন :

অভিযুক্ত মুন্সি রুহুল আসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক কর্তৃক বদলি ও বিভাগীয় শাস্তির জন্য সুপারিশ করার পরও তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন না হওয়া প্রসঙ্গে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে ওই কর্মকর্তাকে বদলিসহ বিভাগীয় ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য এর আগে সুপারিশ করেছি, ব্যাবস্থা নেয়া-না নেয়া ওপরের ব্যাপার।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের আহবায়ক ও ভাঙ্গা কে.এম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোশায়েদ হোসেন ঢালী বলেন, আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থায় সৎ থাকা খুব মুশকিল, বিশেষ করে যে পদে ওই কর্মকর্তা আছেন ওই পদটিই ঘুষ দুর্নীতির অন্যতম একটি জায়গা।

রুহুল আসলাম এব্যাপারে বেশ বেপরোয়া বলে আমি পরিচিত অনেকের কাছেই শুনেছি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতনদের উচিৎ হবে শিঘ্রই দুর্নীতির এই পাাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরা। এমন একজন ব্যাক্তির জন্য পুরো ভাঙ্গা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ বিপন্ন হবে, এটা মেনে নেয়া যায় না।

এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে এর আগে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছিলাম। সেই অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে। সম্প্রতি নতুন করে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সী রুহুল আসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ নাকোচ করে দিয়ে বলেন, এগুলো বেশীর ভাগই অনেক পুরোনো বিষয়, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

যারা এসব মনগড়া অভিযোগ দিয়েছিলো তারাই উল্টো শাস্তি পেয়েছে। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে দাবী করলেও এসংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রমানাদি দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা। কোনো অসুস্থ কর্মচারীর জন্য কোনো মানবিক সাহায্যের টাকা সংগ্রহ করেননি বলেও জানান তিনি।

পাহাড় সমান অভিযোগ, তবুও বহাল তবিয়তে শিক্ষা কর্মকর্তা :

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.