ChannelPadma Privacy Policy

ভিজিটরের বাসায় গোপনে গর্ভপাত : অন্ত:সত্ত্বা নারীর মৃত্যু

ভিজিটরের বাসায় গোপনে গর্ভপাত : অন্ত:সত্ত্বা নারীর মৃত্যু
CHANNEL PADMA bd 2022

ভিজিটরের বাসায় গোপনে গর্ভপাত : অন্ত:সত্ত্বা নারীর মৃত্যু : ফরিদপুরের সালথায় ভিজিটর (পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা) এর বাসায় গোপনে অন্ত:সত্ত্বা নারীর গর্ভপাত করানোর সময় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত ওই নারীর নাম রেহানা বেগম (৪০)। তিনি উপজেলার কানাইড় গ্রামের আজিজুল শেখের স্ত্রী ও ৩ কন্যার জননী। তার দুই কন্যা বিবাহিত ও ছোট কন্যার বয়স ৪ বছর। তিনি ৫মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

নিহত নারীর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কানাইড় গ্রামে দাফন সম্পন্ন করা হয়। অন্ত:সত্ত্বা নারীর গর্ভপাত করেন ভিজিটর (পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা) রোকেয়া বেগম। তিনি সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।

এদিকে ঘটনার পর থেকে রোকেয়া বেগম গা ঢাকা দিয়েছেন। তার কর্মস্থলেও ঝুলছে তালা। রোকেয়া বেগম তার বাসায় এমন অসংখ্য গর্ভপাত ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহত রেহানা বেগমের বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বলেন, আমার মা ৫মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এই বয়সে আবার সন্তান জন্ম দিবে এই লজ্জায় ছিলেন আমার মা। এ অবস্থায় উপজেলা হাসপাতালের ভিজিটর রোকেয়া বেগমের কাছে গেলে তিনি আমার মাকে গর্ভপাত করার পরামর্শ দেন।

তিনি আরো বলেন, তার পরামর্শনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভিজিটর রোকেয়ার ফরিদপুর শহরের আলীপুর বাসায় নিয়ে গর্ভপাতের জন্য মাকে ঔষধ খাওয়ায়। এরপর মায়ের ব্যাথা ওঠে। ব্যাথা ওঠার পর আমার মা ছটফট করতে থাকে। এসময় আমি নিষেধ করার পরও রোকেয়া আমার কথা শোনে না। আরো বলে কিছুই হবে না, ঔষধেই বাচ্চা গর্ভপাত হয়ে যাবে। এই বলে ৫হাজার টাকা নেয় আমাদের কাছ থেকে।

কিন্তু ঔষধে গর্ভপাত না হওয়ায় ওইদিন রাতে আমার মায়ের শরীরে অস্ত্রপচার করে ভিজিটর রোকেয়া বেগম। এতে মায়ের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। শুক্রবার সকালে রোকেয়া বলে টাকা লাগবে আরো ৫ হাজার, তা না হলে তোমার মাকে মেডিকেলে নিয়ে যাও তার অবস্থা খারাপ আমি কিছু করতে পারবো না।

তখন আমি ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শুরু করার আগেই সকাল ১১ টার দিকে আমার মা মারা যায়। ভিজিটর রোকেয়ার অবহেলায় আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আমি ও আমার পরিবার রোকেয়া বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। যাতে আমার মায়ের মতো আর কারো মায়ের এভাবে মৃত্যু না হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রেহানার মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে গট্টি ইউনিয়নের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা রোকেয়া বেগমের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরে ওই নেতারা রেহানার পরিবারকে নয়ছয় বুঝিয়ে মামলা করা থেকে বিরত রেখেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন রেহানার পরিবার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পারভেজ মাতুব্বার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত রেহানা বেগম আমার প্রতিবেশি। সে খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। সেই সাথে ভিজিটর রোকেয়ার শাস্তি দাবী করছি।

সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে প্রথম জানলাম। আপনারা মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদা পারভিনের সাথে কথা বলেন। তার অধিনেই রোকেয়া বেগম কাজ করেন।

সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. নাহিদা পারভিন বলেন, এরকম ঘটনা আমার জানা নাই। তবে রোকেয়া শনিবার সকালে দুই দিনের ছুটি নিয়েছে। যেহেতু ঘটনা উপজেলার বাইরে তাই কিছু বলতে পারছি না। তবে এধরনের ঘটনা দুঃখজনক।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ভিজিটর (পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা) রোকেয়া বেগম বলেন, রেহানা বেগমকে আমি কোন ওষুধ খাওয়াইনি। আমি তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আমাকে চক্রান্ত করে এই ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি ঢাকাতে আছি, পরে কথা বলবো।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, রেহানা বেগমের মৃত্যুর বিষয়ে তার পরিবার থানায় একটি জিডি করেছে। লাশ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.