বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

রোগীর স্বজনকে কুপিয়ে জখম, আসামিদের আগাম জামিন

পদ্মা ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২২ মার্চ, ২০২২

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বামীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামী নার্স ইলা শিকদার ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি দেবাশীষ নয়ন সহ সব আসামী উচ্চ আদালত থেকে ২১ দিনের অন্তবর্তীকালীন আগাম জামিন পেয়েছেন।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন কর এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সব তথ্য প্রমাণ জোগাড় করা হয়েছে। শুধু মেডিক্যালের রিপোর্ট পেতে বাকি। সেটা পেলেই আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হবে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, ওই নার্স তাকে ফোন করে আগাম জামিনের কথা জানিয়েছেন। তবে তাকে কর্মস্থলে যোগদানে নিষেধ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি নার্স ইলা শিকদারের সরাসরি সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে। আমরা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। তাদের কাছ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।

হামলার শিকার ফাহিম আহমেদ রাসেল বলেন, এ মামলার একজন আসামীও গ্রেফতার হয়নি। এই সুযোগে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থায় আমি পুলিশকে আমার নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছি। তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা রাজনৈতিক আশ্রয়ের লোক। ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, শহরের টেপাখোলা বিন্দাবনের মোড় এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত খায়ের মোল্যার সন্তান ফাহিম আহমেদ রাসেল তার স্ত্রী হীরা ওরফে বাঁধনকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে প্রতিদিন দু’বার রক্ত পরীক্ষার নির্দেশনা দেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাব বন্ধ থাকায় বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত পরীক্ষার জন্য রাসেল কর্তব্যরত নার্স ইলা শিকদারকে স্ত্রীর শরীর থেকে সিরিঞ্জে রক্ত টেনে দিতে বলেন। নার্স ইলা এতে অপারগতা জানালে এনিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে মোবাইলে দেবাশীষ নয়নকে ডেকে এনে হাসপাতালের ভিতরেই রাসেলকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। গুরুতর আহত রাসেলকে প্রথমে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় ওই নার্স ইলা শিকদার, নার্সিং সুপারভাইজার জহুরা বেগম ও দেবাশীষ নয়ন সহ অজ্ঞাত আরো দুজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। এদের মধ্যে দেবাশীষ নয়ন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ হতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট আবু আহমেদ আব্দুল্লাকে প্রধান এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ মো. বদরুদ্দোজাকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর