বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৪১ বাংলাদেশি

পদ্মা ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২

বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে মিয়ানমার থেকে দেশে ফিরেছেন ৪১ বাংলাদেশি। বুধবার (২৩ মার্চ) সকালে মংডুতে টেকনাফ ২ বিজিবি ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের পতাকা বৈঠক শেষে তাদের হস্তান্তর করা হয়।

বিজিবি জানায়, মংডুতে সকাল ১১টায় টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখারের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার মংডুর ১ নম্বর বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্রাঞ্চের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল কাও না ইয়ান শো-এর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্য টেকনাফ উপজেলার ২২, সিলেটের মোলভীবাজারের এক, উখিয়ার দুই, বান্দরবানের সাত, রাঙামাটির আট, খাগড়াছড়ির এক জন রয়েছেন। তারা একেকজন একেক মেয়াদে দেশটিতে কারাভোগ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে নাফনদী, সাগরে মাছ শিকার এবং মালয়েশিয়া যাত্রাকালে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ধরা পড়েন। মিয়ানমার কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন বলে তারা জানান।

এই বিষয়ে বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিজিবি। সেখানে বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার জানান, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর দুই দেশের বৈঠকের মাধ্যমে ওই ৪১ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে শাহপরীর দ্বীপে আটক ১৮ জেলেকে মুক্তি দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু বিজিপি রাজি হয়নি। তাদের বিষয়ে তদন্ত শেষ করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে এখনও মাদক ইয়াবা ও আইস চালান অনুপ্রবেশের কথা বলেছি। তারা তাদের সীমান্তে মাদক বিরোধী অভিযানের কথা উল্লেখ করেছে।’

ফেরত আসাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাজা খেটেছেন মো.আইয়ুব ও করিম উল্লাহ। তারা দুই জনই টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা। গত সাড়ে চার বছর আগে সাগরে মাছ ধরতে গেলে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের ২৯ বছর সাজা দিলেও সাড়ে চার বছর সাজা শেষে ফেরত আসেন।

তারা জানান, সাড়ে চার বছর মিয়ানমারের কারাগারে সাজা ভোগ করেছেন। সে দেশে কারাগারে অনেক কষ্ট। তারা ঠিকমতো খাবার দিতো না। কারাগারে আরও অনেক বাংলাদেশি কষ্টের দিন পার করছেন। তাদেরও ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান এই দুই জন।

ফেরত আসা হালিমা জানান, মিয়ানমারে স্বজনদের কাছে বেড়াতে গেলে বিজিপির হাতে ধরা পড়েন। এক বছর সাজা শেষে ফেরত আসেন। দেশে ফিরে আসতে পারায় তিনি খুশি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, মিয়ানমারে কারাভোগ শেষে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের যাচাই-বাচাই শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর