রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

ফেরিতে ভিড়ের চাপে ৫ জনের মৃত্যু, অসুস্থ শতাধিক

সিকদার সজল
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১২ মে, ২০২১

শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার যাত্রাপথে দুই ফেরিতে প্রচন্ড গরমে হুড়োহুড়িতে দম বন্ধ হয়ে এ পর্যন্ত ৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছে। শতাধিক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক। এসময় শতাধিক যাত্রীকে পদ্মায় লাফিয়ে পড়ে জীবন বাঁচাতে দেখা যায়।

ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর গাড়ি নামার আগেই হাজার হাজার যাত্রী উঠে পরায় গাদাগাদি অবস্থাতেই ৩ ঘন্টা ওই ঘাটে অবস্থান করে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শিমুলিয়া ঘাট হয়ে দক্ষিনাঞ্চলের যাত্রীদের ঢল নামে। প্রতিটি ফেরিই যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ন হয়ে পার হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সকাল থেকে বাংলাবাজার ঘাট থেকে খালি ফেরি নিয়ে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে।

দুপুরে রো রো ফেরি এনায়েতপুরী বাংলাবাজার ঘাট থেকে ১৫ টি যানবাহন নিয়ে শিমুলীয়া ঘাটে পৌঁছলে ফেরিটি যানবাহন ঘাটে নামানোর আগেই শিমুলীয়া ঘাট থেকে প্রায় ৫ হাজার যাত্রী ফেরিতে উঠতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। প্রায় ৩ ঘন্টা অপেক্ষার পর যাত্রীদের চাপে লোড করা যানবাহন শিমুলীয়া ঘাটে না নামিয়েই যাত্রী বোঝাই করে ফেরিটি আবার বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ফেরির মধ্যে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি ও প্রচন্ড গরমে শতাধিক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ফেরিটি বাংলাবাজার ৩ নং ঘাটে আসার সাথে সাথে শতাধিক যাত্রী নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে গরম থেকে কোনমতে বাঁচার চেষ্টা করে। এসময় ফেরির মাঝে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারনা ঘটে। এ অবস্থায় ফেরিটি বাংলাবাজার ঘাটে পৌঁছলে অসুস্থ যাত্রীদের মধ্যে এক নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়। অসুস্থ্য শতাধিক যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে আশংকাজনক অবস্থায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে রো রো ফেরি শাহ পরানে শরীয়তপুরের পালং এর আনসুর মাদবর (১৫) নামের এক কিশোর মারা যায়। আর রো রো ফেরি এনায়েতপুরীর যাত্রী মাদারীপুরের কালকিনির গোপালপুর ইউনিয়নের বালীগ্রাম এলাকার নিপা আক্তার (৩৫), বরিশালের হিজলা উপজেলার হারুন মিয়াসহ (৪৫) ৪ জন মারা গেছেন।

জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুন, পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতদের পরিবার প্রতি জেলা প্রশাসক ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন।

ওই ফেরির যাত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, শিমুলিয়ায় হাজার হাজার যাত্রী ঘন্টার ঘন্টা আটকে ছিলাম। এই ফেরিটা যাওয়ার পর হাজার হাজার যাত্রী ফেরিতে উঠে পরে। ফেরির গাড়িগুলো আর নামতে পারে নাই। এইজন্য ৩ ঘন্টার উপর ফেরিটা ঘাটে আটকে ছিল। পরে গাড়ি না নামিয়েই বাংলাবাজার ফিরে আসে। হাজার হাজার যাত্রী তার সাথে গাড়ির ভীড়ের গরমে মানুষ অস্থির হইয়া ছটফট করতে থাকে। এরসাথে হুড়োহুড়িতে আমার সামনেই শত শত মানুষ অসুস্থ হয়ে পরে। ৪ জন মারা গেলেও আরো অনেকে অসুস্থ।

ঝালকাঠিগামী যাত্রী ইদ্রিস আলী বলেন, সদরঘাটের লঞ্চসহ দক্ষিনাঞ্চলের সব রুট বন্ধ থাকায় এ রুটে সব যাত্রী আসছে। এই ফেরিতেও ৫ হাজারের বেশি লোক উঠে। আর কয়েক ঘন্টা ঘাটে আটকে থাকায় হুড়োহুড়িতে গরমে যাত্রীরা ছটফট করছিল। দম বন্ধ হয়েই সবার মৃত্যু হয়েছে। অনেকে জীবন বাঁচাতে পদ্মায় লাফিয়েও পড়েছেন।

ফেরি এনায়েতপুরির মাস্টার ইনচার্জ মোঃ রেজা মুঠোফোনে বলেন, শিমুলিয়ায় যাত্রী চাপে আমরা বাংলাবাজার থেকে নেয়া গাড়িও নামাতে পারিনি। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেই গাড়ি নিয়েই ফিরে আসি। প্রচন্ড গরমে এই ঘটনা ঘটেছে।

শিবচর থানার ওসি মোঃ মিরাজ হোসেন বলেন, ফেরি এনায়েতপুরিতে ৪ যাত্রী ও ফেরি শাহ পরানে ১ যাত্রী মৃত্যুবরন করেছে। প্রচন্ড গরমে হিট স্ট্রোকে এসকল যাত্রীরা মারা গেছে বলে ধারনা করা হয়েছে।

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর