বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

ঢাকা প্রশ্নে চীনকে চোখ রাঙাল যুক্তরাষ্ট্র

পদ্মা ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-জাপান-অস্ট্রেলিয়ার জোট কোয়াডে যোগ না দিতে বাংলাদেশকে ঢাকায় চীনা দূতের হুমকির বিষয়টি নজর এড়ায়নি যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন তারা।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মুখপাত্র নেড প্রাইস।

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে যে মন্তব্য এসেছে সেটি আমরা নজরে নিয়েছি। আমরা বলতে চাই, আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাই। পররাষ্ট্র নীতি ঠিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অধিকারকেও আমরা সম্মান জানাই।’

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ চলাচল ‘অবাধ ও স্বাধীন’ রাখার উপায় খোঁজার যুক্তি দেখিয়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘কোয়াড’ (কোয়াড্রিলেটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ) সংলাপের সূচনা হয়। এই গ্রুপে বাংলাদেশকে টানতে কূটনীতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

কোয়াড গ্রুপে যোগ দিলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে বলে হুশিয়ারি দেন ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

সোমবার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘চীন মনে করে কোয়াড গ্রুপটি চীনবিরোধী। আমি এটা পরিষ্কার করে বলতে চাই, কোয়াড নিজেকে অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত বলে দাবি করলেও তা সত্য নয়। এটা একটি সামরিক জোট এবং মূলত এটা করা হয়েছে চীনের বিরোধিতার জন্য।

‘এই চার সদস্যের ক্লাবে যোগ দেয়াটা বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে না। কারণ এর ফলে চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

চীনা রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা একটা স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমরা ঠিক করব। আমরা কী সিদ্ধান্ত নেব, তা আমরা ঠিক করব। উনি (রাষ্ট্রদূত) একটা দেশের প্রতিনিধি। উনি ওনার বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা তা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেব না।’

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার ও শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের অংশীদার হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক বিষয়াবলি সব মিলিয়ে আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি। চাইলে কোয়াডে তারা আসতে পারে।’

কোয়াড সম্পর্কে নেড প্রাইস বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, কোয়াড হচ্ছে একটি অনানুষ্ঠানিক প্রয়োজনীয় এবং বহুমাত্রিক প্ল্যাটফর্ম। একটি মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় আমাদের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের মতো সমৃদ্ধ গণতন্ত্রকে উৎসাহিত করতে চাই।’

কোয়াড প্রসঙ্গে হুমকি দেয়ায় বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এ বিষয়ে চীনের কাছে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হবে ঢাকা বলছে, বৃহৎ শক্তিগুলো বাংলাদেশকে তাদের যুদ্ধক্ষেত্র বানানোর পাঁয়তারা করছে। চীনা রাষ্ট্রদূতের ‘আগ্রাসী বক্তব্য’ সেই যুদ্ধের পূর্বাভাস। চীন ঢাকায় এই বক্তব্য দিয়ে তার বিরুদ্ধ জোটের প্রতি সহনশীল দেশগুলোকেও এক ধরনের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যখন এমন মন্তব্য আসছে তখনই পিছু হটল চীন। হুমকির বিষয়টিকে ইংরেজি ভাষার দক্ষতার অভাব দাবি করে নিজের সুর পাল্টেছেন রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। চীনা রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বুধবার পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনকে এ কথা জানান।

এদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীনের দেয়া উপহারের করোনা প্রতিরোধী টিকা হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে লি জিমিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব। বৈঠকে কোয়াড ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে চীনা দূতের কাছে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চান তিনি।

জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত সচিবকে জানান, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষতি হবে, এমন কোনো বিষয় তিনি বোঝাতে চাননি। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা কম থাকায় এমনটা হয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষতি হবে এমন কোনো বিষয় তিনি বোঝাতে চাননি। ভাষাগত দুর্বলতার কারণেই এ ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর