রবিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

সালথায় সরকারি খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম সুমন, সিনি: স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১

ফরিদপুরের সালথায় সরকারি খাল ও বাঁওড় পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নামমাত্র খনন কাজ করে মৎস্য কর্মকর্তার যোগসাজসে পৃথক দুইটি প্রকল্পের বিল উত্তোলনের পায়তারা করছেন প্রকল্পের সভাপতি।

জানা গেছে, উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া হাজিবাড়ি থেকে সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭শ ৮৬ ঘন মিটার খাল পুনঃখননের জন্য ১৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ১৬ হাজার ৪৪ ঘন মিটার কাগদী সরকারি বাঁওড়ের একাংশ পুনঃখননের জন্য ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী প্রকল্প দুইটির খনন কাজ শুরু করেন প্রকল্পের সভাপতি সালাউদ্দিন খান পান্নু। খনন প্রকল্পের কাজ দুইটি ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এখনও শেষ হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চান্দাখোলা বারোপিট খাল খনন কাজ করা হচ্ছে মাত্র একটি বেকু মেশিন দিয়ে। কাজের সাইডে প্রকল্প সভাপতি বা তদারকি কর্মকর্তারা কেউ নেই। খাল খননে ৩ ফিট গভীর করার কথা থাকলেও এক থেকে দেড় ফিট গভীর করে খনন কাজ করা হচ্ছে। আবার খালের অনেক স্থানে খননই করা হচ্ছে না।

খাল পাড়ের বাসিন্দা আছমত শেখ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের জানা মতে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিক দিয়ে খাল খনন করার কথা। অথচ বেকু মেশিন দিয়ে খনন কাজ করায় বঞ্চিত হচ্ছে শ্রমিকরা। তিনি আরো বলেন, খালের দুই পাড়ে এমনভাবে মাটি রাখা হয়েছে, যা বৃষ্টি নামলেই মাটি ধ্বসে পড়ে পুনরায় খাল ভরে যাবে।

এদিকে কাগদী বাঁওড়ে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র একটি বেকু মেশিন দিয়ে বাঁওড়ের চারদিকে পাড় বাঁধা হচ্ছে। এখানেও গভীর করে খননের কোনো চিত্র দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা হাশেম শেখ বলেন, বাঁওড়ে খননের কাজ দেখতে গেছিলাম। গিয়ে দেখি সামান্য মাটি কাটা হচ্ছে। যেভাবে কাটা হচ্ছে তাতে মাটির উপরের ঘাষ চেছে উঠানো হচ্ছে। গভীরতো দুরের কথা, কোথাও কোথাও মাটি কাটাও হচ্ছে না। কর্মকর্তারা দাড়িয়ে দেখছেন, কেউ কিছুই বলছেন না। আমি কিছু বলার চেষ্টা করেছিলাম, আমাকে ধমক দিয়ে ওই স্থান থেকে চলে যেতে বলা হয়। আমি চলে আসি।

তিনি আরো বলেন, আমি গরীব মানুষ কি দরকার কথা বলার। তাছাড়া যারা কাজ করছে তারা খারাপ মানুষ। কিছু বললে আমার ক্ষতি করতে পারে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের সভাপতি সালাউদ্দীন খান পান্নু তার প্রভাবশালী এক আত্মীয়’র মাধ্যমে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে লবিং করে খাল ও বাঁওড় খনন প্রকল্পের কাজটি বাগিয়ে আনেন। মৎস্য কর্মকর্তার যোগসাজসে নামমাত্র খনন কাজ করছেন তিনি।
খাল ও বাঁওড় পুনঃখননে অনিয়মের বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি সালাউদ্দীন খান পান্নু বলেন, আপনারা আমার ভাই-ব্রাদার। এনিয়ে লেখালেখি করবেন কেন। আমি আপনাদের সাথে দেখা করবো।

সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিব রায় বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী কাজ না করলে বিল দেওয়া হবে না। খাল ও বাঁওড় পুনঃখননে যতটুকু গভীর করে কাটবে ততটুকুর বিল দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আগের প্রকল্পগুলোতে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও বর্তমান প্রকল্পে বেকু মেশিন দিয়ে কাজ করার কথা রয়েছে। খাল ও বাঁওড় পুনঃখননে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না বলে তিনি দাবী করেন।

ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, খাল ও বাঁওড় খননের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অনিয়মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিয়মের বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর