বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন

জীবন বাঁচাতে অনেকেই লাফিয়ে পড়েন পদ্মায়

পদ্মা ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১

হুড়োহুড়ি করে ফেরিতে উঠার পর গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দেওয়ার সময় প্রচন্ড গরমে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন বাংলাবাজার-শিমুলীয়া নৌরুটের একটি ফেরির শতাধিক যাত্রী। ফেরিটি শিমুলীয়া থেকে বাংলাবাজার ঘাটে পৌছামাত্র প্রচন্ড গরম ও হুড়োহুড়ির থেকে বাচতে জীবন বাঁচাতে যাত্রীরা পদ্মায় লাফিয়ে পড়েন।

অস্থীর শরীরটিকে একটু শীতল করতে শতাধিক যাত্রী দীর্ঘ সময় পানিতে শরীর ডুবিয়ে বসে থাকেন। যাত্রীদের গগনবিদারী চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পানি দেয়ার চেষ্টা করেন৷ ফেরিঘাটেই গুরুতর অসুস্থ্য ৪ জনের মৃত্যু হয়। আশংকাজনক অবস্থায় ১৩ যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গরমে এদিন অপর একটি ফেরির এক যাত্রীসহ দুই ফেরির ৫ যাত্রীর মৃত্যু হয়। স্বজনরা এসে লাশ সনাক্তের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পদ্মবিল গ্রামের মজিবর রহমান শেখের মেয়ে শিল্পি বেগম (৪০) ও পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার আরামকাঠি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মো: শরিফুল ইসলামের (২৬) লাশ বৃহস্পতিবার সকালে ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বালীগ্রাম এলাকার আল আমিন বেপারীর স্ত্রী নিপা বেগম (৪০), বরিশালের মুলাদী উপজেলার চর কালেকাং গ্রামের ইসহাক আকন্দের ছেলে মো: নুরু উদ্দিন (৪৫) ও শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলিকা প্রসাদ গ্রামের গিয়াস উদ্দিন মাববরের ছেলে আনসুর মাদবরের (১৫) লাশ বুধবার হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, গত কয়েকদিনের মত বুধবারও সকাল থেকেই শিমুলীয়া-বাংলাবাজার নৌরুটের ফেরিতে দক্ষিনাঞ্চলগামী যাত্রীদের ঢল নামে। শিমুলীয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিই ছিল যাত্রীতে কানায় কানায় পরিপূর্ন। যাত্রীদের এতই চাপ ছিল যে কোন কোন ফেরি যানবাহন না নিয়ে শুধুমাত্র যাত্রী উঠিয়েই ছেড়ে আসে শিমুলীয়া থেকে। যাত্রীচাপ সামাল দিতে এদিন বাংলাবাজার ঘাট থেকে অল্প যানবাহন বোঝাই করেই বা খালি ফেরি শিমুলীয়া পাঠানো হয়। সকালে বাংলাবাজার ঘাট থেকে রোরো ফেরি এনায়েতপুরী ১৫ টি যানবাহন নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে এসে পৌছায়। এসময় ফেরিটি যানবাহন ঘাটে নামানোর আগেই শিমুলীয়া ঘাট থেকে প্রায় ৫ হাজার যাত্রী ফেরিতে উঠতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। যাত্রী বোঝাই করে প্রায় ৩ ঘন্টা অপেক্ষার পর যাত্রীদের চাপে লোড করা যানবাহন শিমুলীয়া ঘাটে না নামিয়েই যাত্রী বোঝাই ফেরিটি আবার বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। প্রচন্ড গরমে দীর্ঘ সময় তপ্ত রোদে গাদাগাদি করে দাঁিড়য়ে থেকে ফেরির মধ্যেই শতাধিক যাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। ফেরিটি মাঝ পদ্মায় যখন পৌছে তখন ফেরিটিতে লুটিয়ে পড়ে অন্তত ২০ জন যাত্রী। অসহ্য যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকেন তারা।

এসময় ফেরির অন্য যাত্রীরা লুটিয়ে পড়ে থাকা যাত্রীদের পানি পান করানো, বাতাস করা, মাথায় পানি ঢেলে সুস্থ্য করে তোলার চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় ফেরিটি বাংলাবাজার ৩ নং ঘাটে আসার সাথে সাথে শতাধিক যাত্রী নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে গরম থেকে কোনমতে বাঁচার চেষ্টা করে। এসময় ফেরির অন্য যাত্রীদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আশংকাজনক অবস্থায় ফেরিতে লুটিয়ে পড়ে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর আগেই গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পদ্মবিল গ্রামের মজিবর রহমান শেখের মেয়ে শিল্পি বেগম (৪০), পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার আরামকাঠি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মো: শরিফুল ইসলাম (২৬), মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বালীগ্রাম এলাকার আল আমিন বেপারীর স্ত্রী নিপা বেগম (৪০) ও বরিশালের মুলাদী উপজেলার চর কালেকাং গ্রামের ইসহাক আকন্দের ছেলে মো: নুরু উদ্দিন (৪৫) এর মৃত্যু হয়।

আশংকাজনক অবস্থায় ১৩ যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে একই দিন শিমুলীয়া থেকে রো রো ফেরি শাহপরান যাত্রী বোঝাই করে বাংলাবাজার ঘাটে আসার পথে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি ও প্রচন্ড গরমে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলিকা প্রসাদ গ্রামের গিয়াস উদ্দিন মাববরের ছেলে আনসুর মাদবর(১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে শিল্পি বেগম ঢাকার ও নিপা বেগম নারায়নগঞ্জের একটি পোষাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। আর শরিফুল ইসলাম ঢাকার সাভারে একটি কাঠের ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন।

রো রো ফেরি এনায়েতপুরীর যাত্রী বরিশালের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, ফেরিতে এত ভীড় ছিল যে আমরা একপাশ থেকে অন্যপাশে ফিরতে পারছিলাম না। তার উপর প্রচন্ড গরমে আমরা অনেক মানুষ অস্থীর হয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। তাই ফেরি ঘাটে ভীড়ার সাথে সাথে পানিতে নেমে পড়েছি। তা না হলে বাঁচতাম না।

ফেরির আরেক যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা ফেরির অপেক্ষায় শিমুলীয়া ঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকার পর এই ফেরিটি ঘাটে আসে। তখন ফেরির গাড়ি নামানোর আগেই হাজার হাজার যাত্রী ফেরিতে উঠতে শুরু করে। আমিও কোনমতে ফেরিতে উঠে এক জায়গায় দাঁড়াই। সকল যাত্রী ওঠার পরও ফেরিটি প্রায় ৩ ঘন্টা ঘাটে বাঁধা ছিল। যার ফলে ফেরিতে যাত্রীদের গাদাগাদিতে গরমে আমরা ফেরির অনেক যাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। আমরা যারা মোটামুটি সুস্থ্য ছিলাম তারা পানি ও বাতাস দিয়ে অসুস্থ্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম। তবুও চারজন মারা গেল। আর পানিতে লাফিয়ে না পড়লে আরো অনেকেই মারা যেত।

শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মিরাজুল হোসেন বলেন, প্রচন্ড গরমে হিট স্ট্রোকে এসকল ফেরি যাত্রীরা মারা গেছে বলে ধারনা করা হয়েছে। নিহতদের লাশ সনাক্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর