রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০২ অপরাহ্ন

ঘরছাড়া এক নারীর অজানা গল্প

পদ্মা ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১

স্বামীর সাথে ঝগড়ার কারণে গত বছরের মে মাসে একদিন ঘর ছাড়েন আয়েশা সিদ্দিকা।  সীমান্ত পেরিয়ে রওনা দেন ভারতের উদ্দেশ্যে। সম্বল বলতে অল্প কিছু টাকা-পয়সা আর নিজের সেলাই করার অভিজ্ঞতা।

কিন্তু বেনাপোলের সীমান্ত পেরুনোর পর পেছনে ফেলে আসা নিজের তিনটি সন্তান, মা, সংসার সবকিছু মিলিয়ে ভীষণ মন খারাপ হয়ে গেলে ঘরের জন্য কাঁদতে শুরু করলেন আয়েশা।

এরকম সময় রহিম নামের একজন এগিয়ে এলেন সহানুভূতি জানাতে। সান্ত্বনার সাথে সাথে সহায়তার আশ্বাস দিলেন তিনি।  তাকে বিশ্বাস করে এক ঘনটার পরিচয়ে নিজের সমস্ত কষ্টের কথা তুলে ধরলেন তার কাছে।  কিন্তু তখনো তিনি জানেন না সামনে কি অপেক্ষা করছে।

সাহায্যকারী হিসেবে এগিয়ে আসা রহিম তাকে টেম্পোতে উঠিয়ে ধরিয়ে দিলেন আরেকজনের ঠিকানা।  বললেন, শিয়ালদহ স্টেশনে তার সাথে যোগাযোগ করতে।  সেই মত কাজ।

কিন্তু দ্বিতীয় ব্যক্তিটির সাথে আলাপের একপর্যায়ে সে সিগারেট ধরালে সেই গ্যাসে চেতনা হারান আয়েশা।  কখন চেতনা ফিরে পান তাও বলতে পারেন না।  তবে ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে অনেক সময়-সেটি বুঝতে পারেন।

চেতনা ফিরে নিজেকে আবিষ্কার করলেন একটি বাড়ির ভেতর টয়লেটে আটকা অবস্থায়। সেভাবেই সেখানে আটক ছিলেন আরো কয়েক দিন।  বাথরুম থেকে মুক্তি পেলেন ২৭ মে।  বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন তারও দুই সপ্তাহ আগে।

তিনদিন পর্যন্ত কেউ সেখানে আসেনি।  খাবার দেয়া হয়নি।  কল থেকে পানি খেয়ে ছিলেন।  এরপর যখন সেখান থেকে মুক্তি মেলে শুরু হয় নতুন নির্যাতন। তাকে সেখানে ব্যবহার করা হয় অন্যরকম নারী হিসেবে।  এরপর ২৮ তারিখ ভোরের দিকে সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন দরজা খুলে অচেনা শহরের পথে পালিয়ে যান আয়েশা।

আয়েশা জানান, কেরালার ওই বাড়িটিতে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া তাদের দুটো যমজ বাচ্চা ছিল।  আর পালানোর সময় তিনি হলরুমে একজন পুরুষকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন।  সেটি ছিল মালাবার হাসপাতালের পাশেই একটি বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট।

ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তার সাথে একজন নার্সের দেখা হয়। সে তাকে নিয়ে যায় পুলিশের কাছে। এরপর তিনি আশ্রয় পান মানবাধিকার সংগঠন মহিলা মন্দিরম এর আশ্রমে।

এরপর তার স্বামী ভারতে গেলেও বিশদ খবর শুনে তাকে গ্রহণ না করেই ফিরে আসেন।  হতাশ হয়ে বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান আয়েশা।

আযেশার ছিল কবিতা লেখার টুকটাক চর্চা। এরপর তিনি সেখানেই আশ্রয়ে থাকা অবস্থাতে তার লেখালেখি চালিয়ে যান।  তার লেখা বেশকিছু গল্প ও কবিতা মালয়লাম ভাষায় অনুবাদে সহায়তা করেন আর্ম অফ জয় নামে একটি সংগঠনের কর্মীরা।

এরপর ‘আহত আমি’ নামে তার গ্রন্থ প্রকাশ করে আর্ম অফ জয় । ৩৫ বছর বয়সী আয়েশার স্বপ্ন এখন লেখালেখিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।  পাচারকারীদের হাতে পড়ে নির্যাতনের মুখে পড়া আয়েশাকে দেশে ফিরে মুখোমুখি হতে হয়েছে নিদারুণ অপমান আর বঞ্চনার।

অপমান সইতে হচ্ছে তার তিন মেয়েকেও। এমন ঘটনার শিকার হয়ে ফিরে আসেন বহু নারী।  কিন্তু তারা কখনোই নিজেদের কথা অকপটে তুলে ধরতে পারেন না লোকলজ্জার ভয়ে।

কিন্তু আয়েশা সিদ্দিকা চান তার মত আরও অনেক মেয়ে এভাবে আবার ফিরে আসুক জীবনে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর