সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

নির্ঘুম রাত কাটছে মধুমতি তীরের বাসিন্দাদের

ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা থেকে
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। গত ১৫ দিনের ভাঙ্গনে একাধিক বসতবাড়ি, ফসলী জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে হাজারো বসতবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাদি জমি, খেলার মাঠ, মসজিদ-মাদ্রাসা, ঈদগাহ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙ্গন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে মধুমতি তীরের বাসিন্দাদের।

জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতি নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প অনুমোদনের আশ্বাস স্বপ্নই রয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে মধুমতি নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার তিন ইউনিয়নের ১০ গ্রাম।

গত ১৫ দিনের ভাঙ্গনে একাধিক বসতবাড়ি, ফসলী জমি, ধমীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীনের পথে হাজারো বসতবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাদি জমি, খেলার মাঠ, মসজিদ-মাদ্রাসা, ঈদগাহ সহ বিভিন্ন স্থাপনা।

মধুমতির পানি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার পাচুড়িয়া, টগরবন্দ ও গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অন্তত ১০ গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতির লাগামহীন ভাঙ্গন এলাকাবাসীর ঘুম কেড়ে নিয়েছে। বিশেষ করে পাচুড়িয়া ও টগরবন্দ ইউনিয়নে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পাচুড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরনারানদিয়া গ্রাম প্রায় বিলীন হতে বসেছে। এই করোনা কালিন সময়ে ইতোমধ্যে ঘর বাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন ও সর্বহারা হয়ে পড়ছে অনেক পরিবার। ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে প্রায় কয়েক শতাধিক পরিবার। সেখানে বিশাল এলাকাজুড়ে ধসে পড়ছে প্রতিদিন।

গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা শায়েলা খাতুন বলেন, বাড়ির কাছে চলে এসেছে নদী। সব সময় ভয়ে থাকি, কোন সময় যেন ভেঙ্গে চলে যায়। তিনি আরো বলেন, এর আগে দুই বার বসতবাড়ি সড়িয়ে নিয়েছি। এখন আবার সড়িয়ে নিতে হবে। ভাঙ্গনের ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারিনা, স্বামী সন্তান নিয়ে জেগে থাকি।

হুমকির মুখে রয়েছে প্রাইমারি স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা সহ অনেক স্থাপনা। এলাকাবাসী গত কয়েক বছরের ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে তাদের আশার বাণী শুনাচ্ছে, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া চরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাচুড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরনারানদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মধুমতির পাড় ঘেষে দাড়িয়ে রয়েছে যে কোন মুহুর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে উপজেলার এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরনারানদিয়া গ্রামের কামাল শিকদার বলেন, আমার বসতবাড়ি গত বৃহস্পতিবার রাতে মধুমতি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে আমার পরিবার নিয়ে রাস্তার উপর খোলা আকাশের নিচে রয়েছি। এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি।

বাজড়া চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা পারভিন জানান, গত বছরের ভাঙ্গনে বিলীন হতে বসেছিল বিদ্যালয়টি, জিও ব্যাগ ফেলে কোন রকম ভাঙ্গন রোধ করা হয়েছিল। তখন শুনেছিলাম ভাঙ্গন রোধে এখানে স্থায়ী বাধ নির্মাণ হবে এখনও কোন কাজ হয়নি। এবছরও নদীতে আগের মতো জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী বাধ নির্মাণ না হলে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার দায়িত্বে থাকা বোয়ালমারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার জানান, নদীভাঙ্গন রোধে বৃহৎ প্রকল্পের দরকার। পাউবো থেকে ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী বাধ নির্মাণের জন্য আবেদন করে ফাইল জমা দিয়েছি। এ প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। এছাড়া নদী ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ভাঙ্গন রোধে অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক স্যার নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ভাঙ্গনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর