বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন! দাফনে বাধা, স্ত্রীসহ ধরা ৬

পদ্মা ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২

গার্মেন্টকর্মী নারী মৃত স্বামীর লাশ গাজীপুর থেকে গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসেন দাফন করতে। এ সময় লাশে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর। একপর্যায়ে পুলিশে খবর দিলে ধরা পড়েন স্ত্রী ছাড়াও লাশের সঙ্গে আসা আরো পাঁচজন।

আজ রবিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের উজানচর এলাকার যাদুয়ার চর গ্রামে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ওই গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (২৮) প্রায় চার বছর আগে বিয়ে করেন পাশের ঘাগড়া গ্রামের কসম উদ্দিনের মেয়ে মোসা. হাজেরা আক্তারকে (২২)। বিয়ের পর আয়-রোজগারের আশায় দুজনই চলে যান গাজীপুরের কোনাবাড়ীর মইলা পুকুরপাড় এলাকায়। সেখানে থেকে হাজেরা একটি গার্মেন্টে ও দেলোয়ার বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন।

দেলোয়ারের পরিবারের লোকজন জানান, কিছুদিন পর হাজেরার বেপরোয়া চলাফেরায় বাধা দেন দেলোয়ার। এতে নিজের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে মনে করে স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন সময় বিবাদে জড়ান হাজেরা। কোনোমতেই হাজেরাকে বাগে আনতে পারছিলেন না দেলোয়ার। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করায় কয়েক মাস আগে দেলোয়ার বাড়িতে চলে আসেন। পরে স্ত্রী হাজেরা শ্বশুরবাড়িতে এসে বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাকে নিয়ে যান। কিন্তু বেশি দিন পার হয়নি। আবারও ঝগড়া শুরু হয়।

নিহত দেলোয়ারের মা মিনু খাতুন জানান, গত শনিবার রাত ১২টার দিকে ছেলে দেলোয়ার তাকে ভিডিও কলের মাধ্যমে জানান, এ মাসের বেতন পেয়ে একেবারে গ্রামে চলে আসবেন। তার (ছেলের) আর কিছুই ভালো লাগে না। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই হাজেরা ফোন করে জানান, তার স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নিলে সেখানেই মারা যান। কয়েক ঘণ্টা পর লাশ নিয়ে বাড়িতে চলে আসবেন বলেও জানান তিনি।

আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে লাশ শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসেন হাজেরা। সঙ্গে আসনে দুই বোন, এক বোন জামাই, ভাবি ও ভাই। এ সময় লাশ খুলে দেখা যায় লাশের বুকে, মাথায় ও মুখে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন।

নিহতের এক আত্মীয় রতন মন্ডল জানান, তিনি মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে এগুলো কিসের আঘাত প্রশ্ন করলে হাজেরা যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি। ফলে পাড়া-প্রতিবেশীসহ পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে লাশের সঙ্গে আসা সবাইকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহালকালে দেখতে পান শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অনেক আঘাতের চিহ্ন। এতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় এটি রহস্যজনক মৃত্যু। তা ছাড়া লাশের সঙ্গে কোনো মৃত্যু সনদ নেই। এ অবস্থায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর